ফারুক হোসেন জুয়েল: মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার বরাইদ আবাসন প্রকল্প-২ এর ঘর বরাদ্দে অনিয়ম, দূর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি’র অভিযোগ বেশ পুরানো। নানা অনিয়ম ও তদ্বির করে যারা ঘর বরাদ্দ পেয়েছেন তারা এখন বেশিরভাগই নেই আবাসানে। যে কারণে আবাসন প্রকল্পের ঘরগুলোতে ঝুলছে তালা।
জানা যায়, মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার আগ-সাভার এলাকায় স্থাপিত হয় আবাসন প্রকল্প-২। প্রতিটি ঘর তৈরিতে ব্যয় হয় লাখ লাখ টাকা। সেই ঘর গুলো প্রশাসণ তালিকা করে রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে বরাদ্দ দেয়। আবাসনের ১৭ টি ঘর বরাদ্দ হলেও এখন থাকছে না কেউ। ঘর গুলো তালাবদ্ধ থাকছে, উঠনে ঝোপঝাড় হয়ে গেছে।
এই স্বপ্নের ঠিকানায় এ যেনো এক নিস্তব্ধতা। অনিয়ম,দূর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি’র মতো কারণে প্রকৃত ভূমিহীনরা ঘর পায়নি বলে অভিযোগও রয়েছে।। যাদের ঘরগুলো পাওয়ার কথা ছিলো তারা পাইনি ঘর। অপর দিকে আবাসন গুলো করা হয়েছে প্রত্যান্ত গ্রামঅঞ্চলে, যেখানে নেই আয়ের কোন সুয়োগ।
সেই কারণে ভূমিহীন পরিবার গুলো জীবিকার সন্ধানে বাধ্য হয়ে শহরে বা অন্য জায়গায় চলে যাচ্ছেন। ঘর তারা পেয়েছেন ঠিকই, কিন্তু পেটের দায়ে ছাড়তে হয়েছে নিজ এলাকা। ঘরগুলো কেবল ইঁট-সিমেন্টের কাঠামো নয়,এটি লক্ষ লক্ষ গৃহহীন মানুষের অধিকার ও স্বপ্নের প্রতীক।

এই স্বপ্নের ঠিকানায় নিস্তব্ধতা ভেঙে ফিরিয়ে আনতে হবে জীবন। আবাসনে এখন থাকছে না কেউ, তবে নতুন তরে যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত ভূমিহীনদের ঘর-গুলো বরাদ্দ দেওয়া হোক। ১৭টি তালাবদ্ধ ঘর যেন আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়, দুর্বল তদারকি। প্রশাসন পূর্বের তালিকা দ্রুত বাতিল করে, প্রকৃত অসহায়দের কাছে এই ঘরের চাবি তুলে দেবে, স্থানীয়দের এমনটাই প্রত্যাশা ।
লাবু বেপারী নামের এক ব্যক্তি বলেন, আমাদের অঞ্চলের অনেক ভূমিহীনরা আবেদন করে ছিলো। কিন্তু তারা ঘর পায়নি। ঘরগুলো অন্য জায়গার মানুষ পাইছিলো, এখন-তো কেউ থাকরে না,ঘর গুলো ফাঁকা পড়ে আছে। এই আবাসনের আশেপাশেই অনেকে আছেন,যাদের বাড়ি-ঘর নাই,অন্যের জায়গায় থাকে,তাদেরকে নতুন করে বরাদ্দ দেওয়া হোক বলে দাবি করেন তিনি।
আব্দুল বারেক নামের সত্তরোর্ধ্ব এক বৃদ্ধ বলেছেন,পৌনে এক শতাংশ জমির উপরে বাড়ি, তবে সেই বাড়ির পাশেই নির্মাণ হয় আবাসন প্রকল্প-২। একটি ঘর চেয়েছিলাম কিন্তু আমাকে দেয় নাই। ঘর দিবে বলে তাদের সঙ্গে অনেক কাজও করে ছিলাম। কিন্তু ফলাফল শূণ্য বলে জানান তিনি।

নবিরন বিবি নামের এক নারী বলেন, যারা ঘর পাইছিলো তারা অনেক দূরদূরান্ত এরাকার মানুষ। সকলেই কর্ম করে খায়। পেটের দায়ে আয় করার জন্য যেতে হয় আরেক জায়গাতে, গাড়ি ভাড়া দিবে, না-কি বউ-বাচ্চারে খাওয়াইবো,সে কারণে তারা এখান থেকে চলে গেছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ ইকবাল হোসেন বলেন, আপাতত আবাসনে থাকার মতো কোন লোক জন নাই। নতুন করে বরাদ্দ দিবো এমন লোকও পাচ্ছি না। আগের বরাদ্দ বাতিল করে নতুন করে প্রকৃত ভূমিহীনদেরকে ঘরগুলো বরাদ্দ দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।

