নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকার ধামরাইয়ে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের কেলিয়া নামক এলাকা থেকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে মোঃ রতন আলী (৩৬) নামে এক যুবকের মোটরসাইকেল ছিনতাই হয়েছিল। যুবকের ডাকচিৎকার শুনে এলাকার দুই যুবক ছিনতাই হওয়া মোটরসাইকেল উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। এই ঘটনায় ধামরাই থানার ওসি ঐ দুই যুবককে একহাজার টাকা মিষ্টি খেতে দেন।
শুক্রবার (৩মে) দিনগত রাত ৮টার দিকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের কেলিয়া এলাকা থেকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে মোটরসাইকেল ছিনতায়ের ঘটনা ঘটেছিল।
মোঃ রতন আলী মানিকগঞ্জ জেলার সাটুরিয়া উপজেলার ধানকোড়া গ্রামের চেনু মিয়ার ছেলে। সে গাজীপুর জেলার কাশিমপুর এলাকায় একটি টেক্সটাইল মিলে চাকরি করেন।
উদ্ধারকারীরা হলেন, ধামরাই পৌরসভার কুমরাইল এলাকার মোঃ ইমরান হোসেন ও তার বন্ধু হৃদয় মাহামুদ মিলে ছিনতাইকারীর পিছু নিয়ে আশুলিয়া এলাকা থেকে মোটরসাইকেল উদ্ধার করে।
এই বিষয়ে মোটরসাইকেল মালিক মোঃ রতন মিয়া বলেন, মানিকগঞ্জ ধানকোড়া এলাকা থেকে হ- ১২৭৩-০৪ নাম্বারের একটি মোটরসাইকে নিয়ে কাশিমপুর অফিসে যাওয়ার পথে ধামরাই ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের কেলিয়া নামক স্থানে পৌছালে হেলমেট পড়া তিনজন লোক আমার গতিপথ রোধ করে আমার গলায় দেশীয় অস্ত্র ছুরি ধরে আমার মোটরসাইকেল,মোবাইল এবং টাকা পয়সা নিয়ে পূর্ব দিকে চলে যায়। এই সময় আমি ডাকচিৎকার করে লোকজন ডাকতে থাকি। পরে ইমরান ঐখান দিয়ে যাওয়ার সময় আমার চিৎকার শুনে ছিনতাইকারীর পিছু নেয়।
এই বিষয়ে ইমরান হোসেন জানান, আমি জয়পুরা বাসস্ট্যান্ড থেকে মোটরসাইকেল যোগে বাসায় যাওয়ার সময় কেলিয়া এলাকায় দেখি ছিনতাইকারীরা মোটরসাইকেল নিয়ে যাইতেছে। মোটরসাইকেল মালিক চিৎকার করেছে। তখন আমি ও আমার বন্ধু ছিনতাই কারিদের পিছু নিতে থাকি। আমাদের পিছু নেওয়া দেখে ছিনতাইকারিরা নবীনগর হয়ে বাইপাইল এলাকার পলাশবাড়ী এলাকায় ডোকে পরে। একসময় আমাদের চোখের আড়াল হয়। তখন আমরা পলাশবাড়ী পাশের এক দোকান ভাইকে জিজ্ঞাস করি এখান দিয়ে কোন মোটরসাইকেল গিয়েছে কিনা। তখন দোকানদার বলে হা ভাই এখান দিয়ে এই মাত্র একটি মোটরসাইকেল নিয়ে একটি ছেলে গেল। তখন আমি দ্রুত সেখান দিয়ে সামনে গিয়ে দেখি ছিনতাইকারী মোটরসাইকেল নিয়ে যায়। এই সময় পিছন দিক থেকে ডাক দিলে ছিনতাইকারি মোটরসাইকেল রেখে দৌড়িয়ে পারিয়ে যায়।
এই সময় আমরা তার পিছনে না গিয়ে মোটরসাইকেল নিয়ে সোজা ধামরাই থানায় নিয়ে এসে দেখি মোটরসাইকেল মালিক থানায় বসা আছে। পরে ধামরাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ সিরাজুল ইসলাম আমাদের ডেকে মোটরসাইকেল মালিকের কাছে বুঝিয়ে দেয় এবং আমাকে ও আমার বন্ধুকে এক হাজার টাকা দিয়ে মিষ্টি খেতে বলে।
এই বিষয়ে ধামরাই থানার ওসি মোঃ সিরাজুল ইসলাম বলেন, ইমরান ও তার বন্ধু সাহসিকতার সাথে ছিনতাই কারির হাত থেকে মোটরসাইকেল উদ্ধার করে থানায় নিয়ে এসেছে এই জন্য তাদেরকে ধন্যবাদ জানায়। কারণ পুলিশের কাজ ইমরান ও তার বন্ধু করেছে। তবে অতি তাড়াতাড়ি ছিনতাইকারিদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি দেওয়া হবে।

