মোঃ সাইফুল ইসলাম
মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার চান্দহর ইউনিয়নে ফসলি জমির মাটি কাটা, অবৈধ ইটভাটা পরিচালনা এবং মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এসব কর্মকাণ্ড দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন তারা।
মঙ্গলবার (৯ জুন) সকাল ১১টার দিকে সোনাটেংরা ঈদগাহ মাঠসংলগ্ন মানিকনগর-সিরাজপুর সড়কের পাশে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। “চান্দহর ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণ” ব্যানারে আয়োজিত কর্মসূচিতে বিভিন্ন গ্রামের কৃষক, জমির মালিক ও ভুক্তভোগীসহ প্রায় দুই শতাধিক মানুষ অংশ নেন।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা কৃষিজমি রক্ষা, পরিবেশ দূষণ বন্ধ এবং মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন তারিকুর রহমান আলাল।
বক্তব্য দেন মশিউর রহমান দুলাল, ইসমাইল হোসেন, আবু আম্মার লিটন দেওয়ান, আবিদা সুলতানা, মাওলানা আযাহার, ইদ্রিস আলী, আবুবকর ও আরিফ হোসেনসহ স্থানীয় আরও অনেকে।
বক্তারা অভিযোগ করেন, ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে তিন ফসলি কৃষিজমির উর্বর মাটি কেটে বিক্রি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে অবৈধ ইটভাটা ও মাদক ব্যবসা চলতে থাকায় কৃষি, পরিবেশ এবং জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়েছে।
তাদের ভাষ্য, টপসয়েল অপসারণের কারণে জমির উৎপাদনশীলতা কমে যাচ্ছে। অন্যদিকে ইটভাটার ধোঁয়া ও দূষণে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।
তারা আরো বলেন, মাদকের বিস্তারের কারণে এলাকার তরুণ সমাজ বিপথগামী হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি প্রভাবশালী চক্র প্রশাসনের নজর এড়িয়ে এসব অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। ফলে বিভিন্ন সময় অভিযান ও নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা এলেও পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হচ্ছে না।
মানববন্ধন থেকে অবৈধ ইটভাটা, মাদক ব্যবসা এবং ফসলি জমির মাটি কাটার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে চান্দহর ইউনিয়নকে পরিবেশবান্ধব ও মাদকমুক্ত এলাকা হিসেবে গড়ে তুলতে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেন অংশগ্রহণকারীরা।
এ বিষয়ে সিংগাইর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খায়রুন্নাহার বলেন, ফসলি জমির টপসয়েল কাটার বিষয়ে প্রশাসনের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর। এ ধরনের কর্মকাণ্ড আইনের পরিপন্থী উল্লেখ করে তিনি জানান, অভিযোগ পেলেই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতেও অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
উল্লেখ্য, ফসলি জমির মাটি কাটা বন্ধে স্থানীয় সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মঈনুল ইসলাম খান শান্ত এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেছিলেন। এলাকাবাসী সেই উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও মাঠপর্যায়ে এখনো অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধ হয়নি বলে দাবি করেছেন তারা।

