নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকার ধামরাইয়ে একটি ব্যাটারিচালিত রিকশার গ্যারেজে সিসি ক্যামেরার ডিভিআর বক্সসহ বিপুল পরিমাণ মালামাল ও নগদ টাকা লুটের ঘটনার দেড় মাসের মাথায় রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ। সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্রের চার সদস্যকে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ ও সোনারগাঁ এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে গ্রেপ্তারকৃত ওই চার ডাকাতকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। এর আগে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় ধামরাই থানা পুলিশের বিশেষ দল ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার ও লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার করে। একই সঙ্গে উদ্ধার করা হয়েছে লুণ্ঠিত তিনটি ব্যাটারিচালিত রিকশা এবং ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি পিকআপ ভ্যান।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—চক্রের মূল হোতা সোহেল (৩০), ইমাম হোসেন শাওন (৩২), মো. সবুজ (২৯) এবং হাবিবুর রহমান ওরফে রনক ওরফে রনি (২৬)।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ১০ সেপ্টেম্বর ভোররাতে ধামরাই থানাধীন সুতিপাডাঁ ইউনিয়নের ছোট কালামপুর এলাকায় বিল্লাল হোসেনের মালিকানাধীন অটো রিকশার গ্যারেজে এক ভয়াবহ ডাকাতির ঘটনা ঘটে।
কালো মুখোশ পরা ৮-৯ জনের একটি সশস্ত্র ডাকাত দল গ্যারেজের পাহারাদারকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি ও হাত-পা বেঁধে হাতুড়ি ও রামদার ভয় দেখিয়ে ৪টি ইজি বাইক, ২৭টি ব্যাটারি, সিসি ক্যামেরার ডিভিআর মেশিন এবং নগদ টাকাসহ সর্বমোট ১০ লাখ ৮৮ হাজার ৫০০ টাকার মালামাল লুট করে একটি পিকআপ ভ্যানে করে পালিয়ে যায়। এই ঘটনায় ১১ সেপ্টেম্বর ধামরাই থানায় একটি ডাকাতি মামলা দায়ের করা হয়।
কোনো প্রথাগত সূত্র (ক্লু) না থাকায় মামলা রুজুর পর ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার এবং সাভার সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের সার্বিক দিক-নির্দেশনায় তদন্তের ভার দেওয়া হয় ধামরাই থানার এসআই এস এম কাওছার সুলতানকে। ওসি মো. নাজমুল হুদা খানের নেতৃত্বে এসআই কাওছার আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত শুরু করেন।
দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর ২৩ অক্টোবর ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ ও সোনারগাঁ থানার বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে আসামিদের গ্রেপ্তার এবং লুণ্ঠিত মালামালসহ ডাকাতিতে ব্যবহৃত পিকআপ ভ্যানটি জব্দ করা হয়।
এ বিষয়ে ধামরাই থানার ওসি মো. নাজমুল হুদা খান বলেন, ঘটনাটি সম্পূর্ণ ক্লুলেস ছিল এবং ডাকাত দল সিসি ক্যামেরার ডিভিআর বক্সটি পর্যন্ত নিয়ে গিয়েছিল যাতে কোনো প্রমাণ না থাকে। কিন্তু আমাদের চৌকস তদন্ত কর্মকর্তা এসআই কাওছার সুলতানের সাহসিকতা, সুপরিকল্পিত কর্মপদ্ধতি ও আধুনিক প্রযুক্তির নিখুঁত ব্যবহারের মাধ্যমে এই দুর্ধর্ষ চক্রটিকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে।
অপরাধ করে পার পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। গ্রেপ্তারকৃত ৪ আসামিকে সকালে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। মামলার বাকি আসামিদের গ্রেপ্তার এবং লুণ্ঠিত অবশিষ্ট মালামাল উদ্ধারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

