রবিবার

১০ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২৭শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিংগাইরে মোকদ্দমা চলমান ভূমিতে ভবন নির্মাণের পায়াতারা!

নিজস্ব প্রতিবেদক

মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার চাপরাইল মজিরুদ্দিন জুনিয়র হাইস্কুল কর্তৃপক্ষ আদালতে মোকদ্দমা চলমান একটি ভূমির উপর ভবন নির্মাণের পায়াতারা করছে। এতে করে বিপাকে পড়েছে ভুক্তভোগী পরিবার। স্বত্ব রক্ষার তাগিদে আদালতের সরনাপন্ন হয়েও রয়েছেন চিন্তিত।

বৃহস্পতিবার দুপুরে আলাপ হলে মোকদ্দমা চলমান অবস্থায় ভবন নির্মাণ উদ্যোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন মোকদ্দমার ২০ নং প্রতিপক্ষ ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আব্বাস উদ্দিন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ১ম আদালতে উক্ত ভূমি নিয়ে একটি দেওয়ানী আপীল মোকদ্দমা রয়েছে, যাহার নম্বর ৪৬/২১। সিংগাইর উপজেলার চাপরাইল মৌজার সি.এস ৩৭৪ আর.এস ৪৩২ দাগে নাল ৪৯ ডিং এবং সি.এস ও এস.এ ৩৭৩ আর.এস ৪৩১ দাগে নাল ১৯ ডিং ভূমিসহ মোট ৬৮ ডিং ভূমি নিয়ে অত্র মোকাদ্দমাটি চলমান রয়েছে।

এমতাবস্থায় নালিশী ওই ভূমিতে বিদ্যালয়ের নতুন চারতলা ভবন নির্মাণে মরিয়া বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক। অত্র ভূমিটি বর্তমানে খেলার মাঠ হিসেবে রয়েছে। ওই মাঠেই খেলাধুলা করে ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও আশেপাশের ছেলে-মেয়েরা।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে নালিশী ওই ভূমির মালিক আলমাছ খান বলেন, ভূমিটি তাদের ক্রয়কৃত সম্পত্তি। ভূমির কিছু অংশে তাদের বসত বাড়ি আর কিছু অংশ রয়েছে ওই মাঠে। সকল কাগজ পত্রও রয়েছে তাদের। ভূমিটি নিয়ে বিজ্ঞ আদালতে মামলাও চলমান। কিন্তু অসৎ উদ্দেশ্যে ওই ভূমিতেই বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণের পায়তারা করছে প্রধান শিক্ষক। আদালতে মোকদ্দমা করেও তাকে থামানো যাচ্ছে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক এলাকাবাসী বলেন, উন্মুক্ত খেলার মাঠে বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণের উদ্দেশ্যে ভেকু দিয়ে মাটি উত্তোলন করছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। কিন্তু বিদ্যালয় আঙ্গিনায় নতুন ভবন করা যেত অনায়াসে। কিছু অসাধু লোকের পাল্লায় পড়ে খেলার মাঠেই ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে প্রধান শিক্ষকসহ কর্তৃপক্ষ।

ভূমির আরেক অংশিদার রুমা খান বলেন, চাপরাইল মৌজায় রাস্তার পাশে খেলার মাঠের পাশে তাদের ভূমির উপর বহুতল ভবনের নির্মাণ কাজ শুরু করতে যাচ্ছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তাদের নিজস্ব ভূমিতে বিদ্যালয়ের নতুন ভবন করলে তারা অপূরনীয় ক্ষতির সম্মুখিন হবেন। যে কারণে তারা আদালতের সরনাপন্ন হয়েছেন। কিন্তু তাতেও থামেছে না বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি কামনা করেন।

এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক মোঃ আব্বাস উদ্দিন বলেন, মাঠের ওই ভূমিতে ৪০ ফুট প্রস্থ ও ১২০ ফুট দৈর্ঘ্য একটি চারতলা ভবন নির্মাণ হবে। কিন্তু মোকদ্দমা চলমান অবস্থায় ওই ভূমিতে ভবন নির্মাণ কতটুকু যুক্তিযুক্ত জানতে চাইলে সে বিষয়ে স্পষ্ট কোন উত্তর দেননি তিনি।

মোকদ্দমায় বাদীপক্ষের আইনজীবী আক্তারুজ্জামান লিটন বলেন, নালিশী ভূমিতে ভবন নির্মাণের পায়তারার বিষয়টি জানতে পেরে আদালতে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা চেয়ে শুনানী করা হলে আদালত স্থিতিবস্থা বজায় রাখার আদেশ দেন। মোকাদ্দমাটি চলমান অবস্থায় নালিশী ভূমিতে ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করা কোনভাবেই উচিত হবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এ বিভাগের আরও সংবাদ

spot_img

সর্বশেষ