নিজস্ব প্রতিবেদক
মানিকগঞ্জের শিবালয়ে এক কিশোরী ধর্ষণ মামলার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামী পলাশ (২৮) কে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৪, সিপিসি-৩ এর একটি টিম। মামলার পর থেকে বিভিন্ন এলাকায় ভিন্ন ভিন্ন ছদ্মবেশে ৮ বছর ধরে পালিয়ে বেড়াচ্ছিল পলাশ।
বুধবার রাতে র্যাব-৪, সিপিসি-৩ কার্যালয় থেকে পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির বিষয়টি স্থানীয় সাংবাদিকদেরক জানানো হয়। এর আগে বুধবার সন্ধ্যায় মানিকগঞ্জ জেলার ঘিওর থানাধীন পল্লী বিদ্যুৎ এলাকা থেকে পলাশকে গ্রেপ্তার করে র্যাব।
গ্রেপ্তারকৃত যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামী মো. পলাশ জেলার দৌলতপুর উপজেলার বিষ্ণপুর এলাকার আনন্দের ছেলে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে র্যাব জানান, কিশোরী ভিকটিম মানিকগঞ্জ জেলার শিবালয় থানাধীন মহাদেবপুর ইউনিয়নের বিলনালী এলাকায় বসবাস করতো। বিবাদী পলাশ (২৮) মানিকগঞ্জ জেলার শিবালয় থানাধীন বিলনালী এলাকায় মাটি বহনের ট্রাক ড্রাইভার হিসেবে কাজ করতো। ভিকটিম শিবালয় থানাধীন শাকরাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে লেখাপড়া করতো।
উক্ত এলাকায় কাজের সুবাদে বিবাদী পলাশ ভিকটিমের স্কুলে আসা যাওয়ার পথে ভিকটিমকে অনুসরণ করে প্রেমের প্রস্তাব দেয়। ভিকটিম বিবাদীর প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় বিবাদী ভিকটিমের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে প্রতিশোধ নেয়ার সুযোগ খোঁজতে থাকে পলাশ। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৬ সালের পহেলা নভেম্বর সকাল সাড়ে টার দিকে ভিকটিম যথারীতি বাড়ি থেকে বের হয়ে শাকরাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের উদ্দেশ্যে রওনা হয়।
ভিকটিম মাঝামাঝি পথে আসলে পূর্ব থেকে ওৎপেতে থাকা বিবাদী পলাশ ও তার অজ্ঞাতনামা সহযোগীরা ভিকটিমের মুখ বেঁধে অজ্ঞাতনামা মোটরসাইকেল যোগে জোড়পূর্বক ভিকটিমের ইচ্ছার বিরুদ্ধে অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করে ভিকটিমকে তার বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। পরে ভিকটিম ঘটনার বিষয়ে তার পিতাকে বললে ভিকটিমের পিতা উক্ত বিষয়ে শিবালয় থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।
সূত্রোক্ত মামলায় তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্ত শেষে বিবাদী পলাশের বিরুদ্ধে ঘটনার সত্যতা ও সাক্ষ্য প্রমানের ভিত্তিতে বিজ্ঞ আদালতে চার্জশীট দাখিল করেন। বিজ্ঞ আদালত পর্যাপ্ত সাক্ষ্য প্রমান ও উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে চলতি বছরের ১২ই মার্চ আসামী পলাশকে যাবজ্জীবন কারাদন্ডে দন্ডিত করেন।
সূত্রোক্ত মামলায় গ্রেফতার এড়াতে আসামী পলাতক থাকায় বিজ্ঞ আদালত আসামীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী করেন।
এরই প্রেক্ষিতে র্যাব-৪, সিপিসি-৩, মানিকগঞ্জের একটি চৌকশ আভিযানিক দল উক্ত আসামীকে গ্রেপ্তারে তৎপর হয়ে সোর্স নিয়োগ পূর্বক এবং র্যাব সদর দপ্তরের তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃত বক্তিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয় প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে।

