মঙ্গলবার

৬ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২১শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পরকীয়ার জেরে ভাবী ও ভাতিজাকে হত্যা: দেবরের ১০ বছরের কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় পরকীয়া সম্পর্কের জেরে ভাবী ও ভাতিজাকে হত্যার দায়ে সোলাইমান হোসেন (২৮) নামের এক ব্যক্তিকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) মানিকগঞ্জের সিনিয়র দায়রা জজ আদালত এ রায় দেন।

সোলাইমান নিহত গৃহবধূ পারভীনের দেবর। নিহত অপরজন তাঁর শিশু ছেলে নুরু মোহাম্মদ।

মামলার নথি ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালের ১০ জানুয়ারি রাতে সাটুরিয়া উপজেলার কাউন্নারা এলাকায় নিজ বাড়িতে পারভীন ও তাঁর শিশু ছেলে নুরু মোহাম্মদকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করা হয়। ঘটনার পর নিহত পারভীনের পরিবারের পক্ষ থেকে সাটুরিয়া থানায় হত্যা মামলা করা হয়।

মামলার তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, পারভীনের সঙ্গে তাঁর দেবর সোলাইমানের দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। প্রায় পাঁচ থেকে ছয় বছর ধরে তাঁদের মধ্যে এ সম্পর্ক চলছিল বলে তদন্তে উঠে আসে। ঘটনার প্রায় তিন মাস আগে সোলাইমান মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফেরেন। দেশে ফেরার পর পারভীন তাঁকে বিয়ের জন্য চাপ দিতে থাকেন।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার রাতে সোলাইমান পারভীনের কক্ষে যান। সেখানে বিয়ের বিষয় নিয়ে তাঁদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে সোলাইমান ধারালো ছুরি দিয়ে পারভীনের গলায় আঘাত করেন। এ সময় পাশে ঘুমিয়ে থাকা শিশু নুরু মোহাম্মদ জেগে উঠলে তাকেও ছুরিকাঘাত করা হয়।

পুলিশের তদন্তে আরও বলা হয়, হত্যাকাণ্ডের পর সোলাইমান ব্যবহৃত ছুরি ও রক্তমাখা পোশাক ধুয়ে ফেলেন। পরে তিনি নিজের কক্ষে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন।

ঘটনার পর পুলিশ সোলাইমানকে গ্রেপ্তার করে। পরে তিনি আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।

দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণ ও নথিপত্র পর্যালোচনা করে আদালত সোলাইমান হোসেনকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন।

রায় ঘোষণার পর উভয় পক্ষই অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। তাঁরা উচ্চ আদালতে আপিল করার কথা জানিয়েছেন।

এ বিভাগের আরও সংবাদ

spot_img

সর্বশেষ