নিজস্ব প্রতিবেদক
খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা বলেছেন, খাদ্য আমাদের জীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। সাধারণ মানুষের কাছে নিরাপদ খাদ্য পৌঁছানো এবং খাদ্যের নিশ্চয়তা বিধানের জন্যই আমি চেষ্টা করব।
শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরের দিকে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার ধানকোড়া গিরীশ ইনস্টিটিউশন স্কুল মাঠে আয়োজিত গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, খাদ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ায় এলাকার মানুষ অনেক বেশি খুশি হয়েছেন। কারণ তারা সবাই বলছেন “আপা” আপনাকে আমরা আরও কাছে পেলাম। কাছে পাওয়া মানেই হলো সঠিক ও সুষ্ঠুভাবে প্রাপ্যতার ভিত্তিতে খাদ্য এখন সবার ঘরে ঘরে পৌঁছে যাবে।
তিনি আরও বলেন, আপনারা দেখেছেন যে দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই আমাদের মন্ত্রণালয় থেকে প্রতিনিধি দল এসে সবকিছু পরিদর্শন করেছে। ইতিমধ্যে আমরা ঘিওর উপজেলায় একটি অনিয়ম ও গাফিলতি খুঁজে পেয়েছি এবং সেটির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। এভাবে বাংলাদেশের প্রত্যেকটি জেলার খাদ্যগুদাম আমি নিজে পরিদর্শন করব এবং জনগণের জন্য নির্ধারিত খাদ্য যেন সঠিক ভাবে বিতরণ করা হয়, সেদিকেও কড়া নজর রাখব।
খাদ্যমন্ত্রী বলেন, নিরাপদ খাদ্য সরবরাহের বিষয়টি সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে রয়েছে এবং আমরা সেই লক্ষ্যেই কাজ করছি। সাধারণ মানুষের কাছে খাদ্য পৌঁছে দেওয়াই আমার মূল কাজ। খাদ্য বিতরণের এই কাজে এলাকার লোকজনও সম্পৃক্ত থাকে, যা আপনারা সবাই জানেন। এ ক্ষেত্রে তাদেরও দায়িত্ব রয়েছে এবং নিজ নিজ অবস্থান থেকে সবাইকে সঠিক ভাবে সেই দায়িত্ব পালন করতে হবে। কেউ যদি ব্যর্থ হয় তবে তার বিরুদ্ধেও আমরা ব্যবস্থা নেব।
আফরোজা খানম রিতা বলেন, খাদ্যের পর্যাপ্ত মজুদ নিশ্চিত করতে এবং যেকোনো সংকট সফল ভাবে মোকাবিলা করতে আমরা সচেষ্ট রয়েছি। আমি মনে করি, প্রতিটি মন্ত্রণালয়েই চ্যালেঞ্জ থাকে কারণ চ্যালেঞ্জ নিয়েই জীবন আর চ্যালেঞ্জ তো থাকবেই। খাদ্যের পর্যাপ্ত মজুদ ঠিক রাখা এবং নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করাই আমার মূল চ্যালেঞ্জ। আশা করি, আমি এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই সফল ভাবে কাজ করে যেতে পারব।
তিনি আরও বলেন, আপনারা খুব শীঘ্রই শুনতে পাবেন যে “ওয়াই” আকৃতির দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মিত হতে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রীর সাথে আমাদের কথা হয়েছে। মানিকগঞ্জের মানুষের আশা ও স্বপ্নের এই সেতু অবশ্যই বাস্তবায়িত হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও এই “ওয়াই” আকৃতির সেতুর ব্যাপারে সম্মতি দিয়েছেন।
সাটুরিয়া উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম বকুলের সঞ্চালনায় এবং ধানকোড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম জুয়েলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সিভিল সার্জন ডা. আইভী ফেরদৌস, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. সালাউদ্দিন, মানিকগঞ্জ জজ কোর্টের জিপি অ্যাডভোকেট মো. আব্দুল আউয়াল খান, মানিকগঞ্জ ড্যাবের সভাপতি ডা. মো. বদরুল আলম চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. জিয়াউর রহমান, কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আশরাফ, সাটুরিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস খান মাখন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার সরকার এবং ধানকোড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল করিমসহ স্থানীয় সহস্রাধিক নেতাকর্মী।

