ওয়াসিম হোসেন
ঢাকার ধামরাই উপজেলা ১৪৪ নং বাওজা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ১৫০ নং চান্দখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দুইটিতে নতুন ভবন হবে এ প্রত্যাশায় পুরাতন পাকা ভবন (বিল্ডিং) কয়েক বছর আগে ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে। মাস গড়িয়ে কয়েক বছর পেড়িয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত নতুন ভবন নির্মাণের কোন বরাদ্দই হয়নি।
ফলে একদিকে শ্রেনি কক্ষের স্বল্পতা অন্যদিকে প্রখর রোদ আর ভ্যাপসা গরমের মধ্যেই কোমল মতি শিক্ষার্থীদের এ টিন সেট ঘরের মধ্যেই শিক্ষা গ্রহন করতে হচ্ছে। আবার বৃষ্টি হলেই এ শ্রেনি কক্ষে পানি ঢুকে পড়ে। এরমধ্যেই ক্লাস করতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।
এমন পরিস্থিতিতে ওই বিদ্যালয় দু’টিতে দিনদিন কমে যাচ্ছে শিক্ষার্থীর সংখ্যা। শুধু কি ভবনের সমস্যা বাথরুমের অবস্থা একেবারেই নাজুক। এ আধুনিক যুগে এতো প্রতিকূলতার মধ্যে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা ক্লাস করলেও উপজেলা শিক্ষা অফিসার সশরীরে এ বিদ্যালয় পরিদর্শন পর্যন্ত করেননি বলে বিদ্যালয়ের অনেকেই জানিয়েছেন।
সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, উপজেলার সানোড়া ইউনিয়নে ১৪৪ নং বাউজা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ১৯৭৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। পরে সরকারি ও হয়। এ বিদ্যালয়ের একটি পাকা ভবনে নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছিল। পুরাতন ভবনের জায়গায় নতুন ভবন হবে। এমন ধারনায় পুরাতন ভবনটি গত ৩ বছর পূর্বে ভেঙ্গে ফেলা হয়।
শিক্ষার্থীদের পাঠদান করানোর জন্য পাশে দু’ চালা ছোট একটি টিন সেট ঘর তৈরি করে দেয়া হয়। এ ঘরের ভিতর সিলিং পর্যন্ত দেয়া হয়নি। এ ঘরের চালের উপর নেই কোন গাছ বা ছায়া। বর্তমানে ফ্যানের ব্যবস্থা থাকলেও প্রখর রোদ ও গরমে অতিষ্ঠ কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। তাপ আর গরমে শিক্ষার্থীরা ক্লাস পর্যন্ত করতে চায় না।
শুধুকি তাই সামান্য বর্ষা হলেই ঘরের ভিতর পানি পর্যন্ত উঠে। পানির মধ্যেই ক্লাস করতে হয় শিক্ষার্থীদের। বিদ্যালয় ভবনের সমস্যার পাশাপাশি বাথরুমের ও সমস্যা রয়েছে। এ অব্যবস্থাপনা কারনে অনেক শিক্ষার্থী এ বিদ্যালয় ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে।
অপরদিকে ১৫০ নং চান্দখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবস্থা প্রায় একই। এ বিদ্যালয়ের পুরাতন পাকা ভবনটি ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে নতুন ভবনের প্রত্যাশায়। এ বিদ্যালয়েও টিনের ছাপড়ায় প্রখর রোদ আর ভ্যাপসা গরমে ক্লাস করতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। বৃষ্টি হলেই ঘরের ভিতর পানি জমে। বাথরুমের অবস্থা ও নাজুক।
এ বিদ্যালয়ের ভবনের সমস্যা পাশাপাশি রয়েছে জায়গা (জমির) সমস্যা। বিদ্যালয়ের ৩৩ শতাংশ জায়গার মধ্যে দখলে রয়েছে মাত্র ১৩ শতাংশ। ২০ শতাংশই রয়েছে অন্যের দখলে। এতো স্বল্প জায়গার মধ্যে শিক্ষার্থীরা খেলাধূলাও করতে পারছে না। এ নিয়েও কর্তৃপক্ষের কোন দৃষ্টি গোচর হচ্ছে না।
বিদ্যালয়ের এতো সমস্যার কথা উপজেলা শিক্ষা অফিসার জানার পরও একদিনও বিদ্যালয় পরিদর্শনে যাননি। তবে কি কারণে তিনি পরিদর্শনে যেতে পারেননি তা জানা যায়নি।
চান্দখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাজমা আক্তার বলেন, ভবন নির্মাণ না হওয়ায় গরমের কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে অনেক কষ্ট করে ক্লাস করতে হচ্ছে।
একই কথা জানালেন বাউজা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক মাহফুজুর রহমান।
এ ব্যপারে উপজেলা শিক্ষা অফিসার মুহাম্মদ মোবাখখারুল ইসলাম মিজান বলেন, বিদ্যালয় ভবন নির্মাণের কিছুটা জটিলতা রয়েছে। তিনি আরো উল্লেখ করেন এতো সমস্যা এ নিয়ে তো প্রধান শিক্ষকরা জোড়ালো ভাবে জানাননি। বিষয়টি দেখছি।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আল মামুন বলেন, বিদ্যালয়ের এতো সমস্যা আমাকে কেউ কখনো জানায়নি। আগে জানলে কিছুটা হলেও সমস্যা সমাধান করা যেত শিক্ষার্থীদের এতো কষ্ট করতে হতো না।

