ডেস্ক নিউজ
বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের ক্ষেত্রে শুধু পুরুষকে শাস্তির আওতায় আনার বিধান কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে প্রাপ্তবয়স্কদের সম্মতিমূলক ব্যক্তিগত সম্পর্ককে ‘বিয়ের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি’র অজুহাতে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করার বিধান কেন সংবিধানবিরোধী, অকার্যকর ও বাতিল ঘোষণা করা হবে না—তাও জানতে চেয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি হাবিবুল গনির নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন। আদালত নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে রুলের জবাব দিতে নির্দেশ দিয়েছেন।
রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান। রিটে বলা হয়, প্রাপ্তবয়স্কদের সম্মতিমূলক ব্যক্তিগত সম্পর্ককে ‘বিয়ের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি’র ভিত্তিতে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করার বিধানটি অস্পষ্ট, বৈষম্যমূলক এবং সংবিধানে স্বীকৃত মৌলিক অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এ কারণেই সংশোধিত আইনের সাংবিধানিক বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে।
এর আগে একই বিষয়ে করা একটি রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে হাইকোর্ট রুল জারি করেছিলেন। মঙ্গলবারের সম্পূরক রুলের মাধ্যমে আদালত সংশোধিত আইনের সাংবিধানিক বৈধতার বিষয়টি আরও স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য জানতে চেয়েছেন।
রিটে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর মাধ্যমে যুক্ত করা সেই বিধান, যেখানে বিয়ের প্রলোভনে যৌন সম্পর্ক স্থাপনকে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করে শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। সংশোধনী আইনের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয় ২০২৫ সালের ২০ মার্চ।
আইনজীবী ইশরাত হাসান বলেন, সংশোধিত আইনে অপরাধটি ঠিক কোন পরিস্থিতিতে সংঘটিত হবে, তার স্পষ্ট ব্যাখ্যা নেই। বিয়ের কথা বলার পর শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করলেই অপরাধ হবে, নাকি পরবর্তীতে বিয়ের প্রতিশ্রুতি পালন না করলে অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে—এসব বিষয়ে আইনে পরিষ্কার নির্দেশনা নেই।
তিনি আরও বলেন, একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারী ও পুরুষের সম্মতিমূলক সম্পর্কে উভয়েরই অংশগ্রহণ থাকে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে শুধু পুরুষকে দায়ী করে শাস্তির বিধান রাখা ন্যায়বিচারের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
তার ভাষ্য, এমন বিধানের মাধ্যমে একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারীকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে যেন তিনি সম্পূর্ণভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণে অক্ষম এবং কেবল পুরুষের প্রলোভনের শিকার। অথচ প্রাপ্তবয়স্কদের পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে উভয় পক্ষের ভূমিকা থাকে।
আইনজীবী ইশরাত হাসান বলেন, রাষ্ট্র যদি মনে করে এ ধরনের সম্পর্ক সমাজের জন্য ক্ষতিকর, তাহলে সবার জন্য সমান আইন প্রণয়ন করা উচিত। শুধু এক পক্ষকে শাস্তির আওতায় আনা বৈষম্যমূলক এবং ন্যায়বিচারের পরিপন্থী।

