নিজস্ব প্রতিবেদক
মানিকগঞ্জ পৌরসভার দাশড়া মৌজায় ২.৪৬ ডিং ভূমি ক্রয় করিয়া দোকান-ঘর নির্মাণ করিয়া দীর্ঘদিন ধরে দখলে রয়েছে সালাউদ্দিন চৌধুরী বাবু নামে এক আমেরিকা প্রবাসী। তার জমির পাশের মালিক শিল্পী গং সালাউদ্দিনের ক্রয় করা ওই জমি দখলের পায়তারা ও হয়রানি করে আসছে। আদালতে মামলা করে হেরে গিয়েও বন্ধ করেনি হয়রানিমূলক কার্যক্রম।
পরিবারসহ আমেরিকায় থাকা ওই প্রবাসী’র দোকান ও জমি দেখবালের দায়িত্বে থাকা আব্দুল বাতেন বলেন, ২০১২ সালের ১৯ জানুয়ারী হোসনে আরার নিকট থেকে ২.৪৬ ডিং ভূমি ক্রয় করে স্বত্ব ও দখল বুঝে নেন সালাউদ্দিন চৌধুরী। এরপর থেকেই শিল্পী গং বিভিন্ন সময়ে ওই ভূমিকে কেন্দ্র করে অকারনে হয়রানি করে আসছে। সালাউদ্দিন চৌধুরী ওই জমিতে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার মামলা করলে আদালত তার পক্ষে রায় প্রদান করেন। যাহার মামলা নং- ২৯৪/১২। পরে শিল্পী গং সেই মামলায় আপিল দায়ের করেন, যাহার নাম্বার- ৯০/২০১৯। বিজ্ঞ আপিল আদালত পূর্বের রায় বহাল রেখে আপিল মোকদ্দমা নামঞ্জুর করেন।
এরপর আবার চলতি বছরে এসে শিল্পী বাদী হয়ে বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে একটি পিটিশন মোকদ্দমা দায়ের করেন, যাহার নম্বর ১১৮ (মা) ২৫। বিজ্ঞ আদালতের বিচারক শিল্পীর দায়ের করা ওই মামলাটি নথীজাত করে দেন। এতোকিছুর পরও সালাউদ্দিন চৌধুরীর দখলকৃত ওই জায়গায় থাকা দোকান-ঘর মেরামতে বাঁধা দেন প্রভাবশালী ওই শিল্পী গং।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে ক্রয়সূত্রে মালিক হওয়া ভূমির মালিক সালাউদ্দিন চৌধুরী বাবু বলেন, আমাদের ক্রয়কৃত ভূমিতে স্থাপনা নির্মান করতে গেলে আমাদের পরিবারের সকলে প্রবাসে থাকায় শাহিন আরা ও শিল্পী গং’রা বাধা দেয় এবং হয়রানি করে। এরআগে শাহিন আরা ও শিল্পী গং হইতে মের্সাস প্রাপ্তি ইন্টারন্যাশনাল, যাহার প্রোপাইটর কাজী জিয়াউদ্দিন, কাজী রিয়াজুদ্দিন আর. দাগ ৪০৯৬, ৪১২০ মোট ৪.৬৩ শতাংশ ভূমি পাওয়ার নিয়ে ৮ তলা ভবন তৈরির উদ্দেশ্যে মানিকগঞ্জ পৌরসভা কর্তৃক ডিজাইন পাশ করিয়ে অবৈধভাবে আমাদের আর.এস ৪০৯৪ দাগের ভূমিতে কাজ করার চেষ্টা করেন। ক্রয় সূত্রে মূলত ৪০৯৪ দাগের ভূমির মালিক আমরা (সালাউদ্দিন বাবু)।
যে কারণে উক্ত বিষয়টি জানতে পেরে সংশ্লিষ্ট ভূমির মালিকানা সংক্রান্ত কাগজ পত্র জমা দিয়ে পৌরসভায় আপত্তি দিলে ওই ভূমিতে ৮ তলা ভবন তৈরির ডিজাইন বাতিল করে পৌরসভা। প্রকৃতপক্ষে শিল্পী গং’রা বিভিন্ন অজুহাতে আমাদের ক্রয়কৃত ভূমি নিয়ে হয়রানি করে আসছে।
এবিষয়ে জানতে চাইলে শিল্পী গংদের অন্যতম পক্ষ শাহিন আরা বলেন, উক্ত ভূমি নিয়ে উচ্চ আদালতে আপিল করা হয়েছে। আপিলের কাগজপত্র দেখতে চাইলে না দেখিয়ে তিনি তার আইনজীবীর মাধ্যমে সালাউদ্দিন বাবুর বরাবর প্রেরণ করা হবে বলে জানান তিনি। এছাড়া সালাউদ্দিন বাবুর হয়রানির অভিযোগ অসত্য বলিয়া দাবি করে তিনি।

