নিজস্ব প্রতিবেদক
মানিকগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলা ও মারধরের ঘটনার প্রায় দেড় মাস পর আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়েছে। মামলায় আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের ২০ জন নেতা-কর্মীর নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১০০ থেকে ১৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
রোববার সন্ধ্যায় মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) দায়িত্বে থাকা পরিদর্শক (তদন্ত) স্বপন কুমার সরকার মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, রোববার সকালে জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও জেলা জজ আদালতের সাবেক সরকারি কৌসুঁলি (পিপি) মো. আজাদ হোসেন খান মানিকগঞ্জ সদর থানায় এই মামলাটি দায়ের করেন।
মামলায় আসামিদের মধ্যে রয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম মহীউদ্দীন, সাধারণ সম্পাদক আবদুস সালাম, যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক সুলতানুল আজম খান, কাজী এনায়েত হোসেন, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সিফাত কোরাইশী ওরফে সুমন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আবু বকর সিদ্দিক খান, সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার, জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক আবদুর রাজ্জাক ওরফে রাজা, পৌর আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক মাহিদুল ইসলাম, যুবলীগের কর্মী ইরাদ কোরাইশী ওরফে ইমন, জুয়েল ভুঁইয়া ও মো. সানি এবং পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি অভিজিৎ সরকার।
এজাহার এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৮ জুলাই সকালে আসামিরা পিস্তল, শর্টগান, এ কে ৪৭ এবং রাম দা, ছ্যান, চাপাতি, সামরাই, চৌশিরা কাঠের বাটাম সহ বিভিন্ন দেশীয় মারাত্বক প্রাণ নাশক অস্ত্র-শস্ত্রে সজ্জিত হইয়া আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও বিএনপির নেতা-কর্মীদের হত্যা করার উদ্দেশ্যে মানিকগঞ্জ খাল-পাড় মোড়ে জড়ো হতে থাকেন।
সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জেলা শহরের খালপাড় মোড় এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের কর্মসূচি সফল করার লক্ষ্যে জেলা বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা একত্রিত হয়ে বিএনপির কার্যালয়ে যাচ্ছিলেন বাদি আজাদ হোসেন। দলের নেতা-কর্মীদের একটু আগে তিনি বের হলে পথে খাল মোড় এলাকায় আসামি কাজী এনায়েত হোসেনের নির্দেশে আসামি সিফাত কোরাইশী, জুয়েল ও ইমন বাদির গতিরোধ করেন।
এ সময় অন্যান্য আসামিদের মদদে সিফাত কোরাইশী তাঁর হাতে থাকা শর্টগান দিয়ে বাদি আজাদ হোসেনকে হত্যার উদ্দেশে গুলি করেন। গুলি লক্ষভ্রষ্ট হলে আবারও গুলি করলে তা বের না হওয়ায় অপর আসামির হাতে থাকা কাঠের বাটাম নিয়ে সিফাত কোরাইশী বাদিকে এলোপাথারি পেটান।
এসময়ে অন্যান্য আসামিরা তাঁদের হাতে থাকা বিভিন্ন ধরণের আগ্নেয়াস্ত্র এবং রাম দা, ছোরা ও লোহার রড নিয়ে বিএনপির নেতা-কর্মীদের ওপর একযোগে হামলা করেন। আগ্নেয়াস্ত্রের গুলিতে জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রেজাউর রহমান খান ওরফে সজিব গুরুতর আহত হন।
সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) দায়িত্বে থাকা পরিদর্শক (তদন্ত) স্বপন কুমার সরকার বলেন, মামলাটি তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

