নিজস্ব প্রতিবেদক
মালদ্বীপে ভালো ভাতনের চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে সেখানে শাকিল হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে জিম্মি করে ১০ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ ওঠেছে ধামরাই উপজেলার ভাড়ারিয়া ইউনিয়নের সাইদ পাড়া গ্রামের মালদ্বীপ প্রবাসী দালাল আব্দুর রাহিমের বিরুদ্ধে।
বুধবার (২২ অক্টোবর) সকালে সাঈদপাড়া গ্রামে এলাকাবাসী দালাল রাহিমের গ্রেফতারের দাবিতে বিক্ষোভ করেন। কুশুরা ইউনিয়নের বাউজা গ্রামের মৃত আব্দুর ছামাদের ছেলে জিম্মিকৃত শাকিল হোসেনকে দ্রুত উদ্ধারের দাবি জানান ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী।
সরেজমিনে গিয়ে যায়, গত সেপ্টেম্বর মাসের ২ তারিখে ভাগ্যের পরিবর্তনের আসায় ভাড়ারিয়া ইউনিয়নের সাইদ পাড়া গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে প্রবাসী দালাল আব্দুর রাহিমের মাধ্যমে মালদ্বীপে পারি জমান শাকিল। সেখানে যাওয়ার পর সেখানে জিম্মি করে শারিরীক ও মানসিক নির্যাতন করে পরিবারের কাছে দাবি করছে মুক্তি পনের টাকা।
বর্তমানে শাকিলের পরিবারে নেমে এসেছে অন্ধকারের ছায়া।দ্রুত শাকিল কে ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ভুক্তভোগী পরিবার।

এলাকাবাসী জানান,আমাদের এলাকার ছেলে রাহিম সে বেশ কিছুদিন ধরে প্রবাসে মালদ্বীপে বসবাস করে।রাহিম বিদেশে নেওয়ার দালালি করে। বিদেশে নেওয়ার কথা বলে অনেক মানুষের কাছ থেকে টাকা পয়সা নিয়েছে।টাকার পয়সার ব্যাপার নিয়ে অনেক বিচার-আচার করেছি। রাহিম অনেক খারাপ লোক। রাহিমের মা এলাকায় এলাকায় ঘুরে মানুষকে মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে পাসপোর্ট নিয়ে থাকে ও রাহিম এর মা মহিলাদের টাকার লোভ দেখিয়ে প্রতিটা পাসপোর্ট এর জন্য ২৫ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত দেওয়ার কথা থাকে এভাবেই লক্ষ লক্ষ টাকা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে। ভুক্তভোগী শাকিল আমাদের গ্রামের মেয়ের জামাই তার সাথে যে প্রতারণা করছে এটা ভালো না। আমরা এলাকাবাসী একত্রিত হয়ে রাহিমের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করছি এবং শাকিলকে অতি তাড়াতাড়ি দেশে ফিরিয়ে আনতে হবে।
শাকিলের স্ত্রী জানান,অভাব অনটনের মধ্যে চলছিল আমাদের পরিবার।একটু সুখ ও পরিবারের সদস্যদের মুখে দুবেলা দুমুঠো ভাতের জন্য প্রবাসে পাড়ি জমান আমার স্বামী শাকিল।সুখ আর ভাত তো দূরের কথা এখন আমার স্বামীর জীবন নিয়ে সংখ্যায় রয়েছি আমরা।ছয় লক্ষ টাকা দিয়ে বিদেশে মালদ্বীপ পাঠাই আমাদের গ্রামের দালাল রাহিমের মাধ্যমে ভালো কাজ দিবে বলে আমাদের সাথে কথা ছিল।এখন ভালো কাজ তো দূরের কথা,সেখানে গিয়ে আমার স্বামী এক বেলা খাবার পাচ্ছে না। আমার স্বামী বিদেশে অনেক কষ্ট আছে তাকে জিম্মি করে রাখা হয়েছে।রাহিম দালাল বলতেছে যদি শাকিল কে দেশে ফিরিয়ে নিতে চাও তাহলে ১০ লক্ষ টাকা দিতে হবে। তা না হলে সমস্যা আছে।
এছাড়াও দালাল রাহিম এলাকার ফারুক হোসেন, জাহিদুর, রাসেল হোসেন, কদ্দুছ আলীকে মালদ্বীপ নেওয়ার কথা বলে ৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
তবে এবিষয়ে অভিযুক্ত দালাল রায়হানের বাড়িতে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি।

