বৃহস্পতিবার

২১শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ধামরাইয়ে গ্যাসের বিস্ফোরণে দম্পতি দগ্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকার ধামরাই পৌরসভার কিষান নগর এলাকায় চুলার গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে এক দম্পতি দগ্ধ হয়েছেন।

মঙ্গলবার (১০মার্চ) দিনগত রাত ১০টার দিকে ধামরাই পৌরসভার কিষাণ নগর এলাকায় একটি দোতলা ভবনের নিচতলায় এ ঘটনা ঘটে। এরমধ্যে স্ত্রী সুমনা বাদশা অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছে ডাক্তার। বিস্ফোরণের ঘটনার সূত্রপাতস্থলের ভবনের অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, চুলা চালু থাকায় জমে থাকা গ্যাস আগুনের সংস্পর্শে আসতেই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে কক্ষের জানালার কাঁচসহ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আর কক্ষে থাকা গৃহবধূর শরীরের অন্তত ৮৫ভাগ দগ্ধ হন।

এছাড়া তার স্বামীর দুই হাতসহ অন্তত ২০ভাগ দগ্ধ হয়েছে। তাদের উদ্ধার করে প্রথমে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে সেখান থেকে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনার পরপরই সেখানে ছুটে যান নুরুল ইসলাম নামে এক প্রতিবেশী। তিনি বলেন, আমরা সবাই রোজার মধ্যে ছিলাম, কেউ নামাজে ব্যস্ত, কেউ অন্য কাজে ব্যস্ত। হঠাৎ করে একটি বিকট শব্দ শুনে সেখানে গিয়ে দেখি ঘরের ভিতরে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হয়েছে।

এতে জানালাগুলো ভেঙে গেছে। জানালার কাচ ভেঙে পড়ার বিকট শব্দ হচ্ছিল। এ ঘটনায় এই বাড়ির মালিক বাদশার হাতে আঘাত লেগেছে এবং তার স্ত্রীর অবস্থা খুবই খারাপ। পরে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা অসীম ঘোষ বলেন, আমি যখন বিকট শব্দটা শুনি, তখনই দৌড়ে সেখানে গিয়ে দেখি গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হয়েছে। চুলা চালু থাকার কারণে রুমের ভেতরে গ্যাস জমে গিয়েছিল। পরে বাদশার স্ত্রী চা তৈরি করতে চুলা চালু করার সাথে সাথে সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

ধামরাই ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মোঃ আল আমিন খান বলেন, আমরা রাত প্রায় ১০টার দিকে খবর পাই একটি বাসাবাড়িতে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি গ্যাসের লাইনের লিকেজ মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ হচ্ছিল। পরে গ্যাসের লাইন ও রাইজারটি বন্ধ করে দিই।

তার আগে স্থানীয় লোকজন জানান, এ ঘটনায় দুইজন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজন নারী গুরুতর আহত হয়েছে এবং তার স্বামীর শরীরের প্রায় ২০ভাগ জলসে গেছে। তাদের দুইজনকে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। ভেতর ও বাইরের যে গ্যাস লাইনে লিকেজ ছিল, সেই দুইটি লাইনই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে।

এ বিভাগের আরও সংবাদ

spot_img

সর্বশেষ