শনিবার

২৫শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১০ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মানিকগঞ্জে অপপ্রচার চক্রের দৌরাত্ম্য:আতঙ্কে রাজনীতিবিদ-সাংবাদিকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
মানিকগঞ্জে নামে-বেনামে ফেসবুক পেজ ও আইডি খুলে দেদারসে অপ-প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে একটি গ্রুপ। জেলার গুরুত্বপূর্ণ রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক, ছাত্রনেতা ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধারাবাহিক অপপ্রচার, চরিত্রহনন ও ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ এই চক্রের বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে লোকচক্ষুর আড়ালে থেকে বিভিন্ন ফেসবুক পেজ ও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যা তথ্য, বিভ্রান্তিকর পোস্ট ও মানহানিকর কনটেন্ট ছড়িয়ে আসছে এই চক্রটি। অভিযোগ রয়েছে, এসব অপপ্রচারের মাধ্যমে ভয়ভীতি দেখিয়ে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায়ই তাদের মূল লক্ষ্য।

সৌদি আরব থেকে নিয়ন্ত্রিত চক্র!

অনুসন্ধানে জানা গেছে, সৌদি আরবপ্রবাসী কয়েকজন ব্যক্তি মিলে গড়ে তুলেছে এই নেটওয়ার্ক। শুরুতে তারা “মানিকগঞ্জ নিউজ” নামে কার্যক্রম চালালেও পরে বিভিন্ন সময় নাম পরিবর্তন করে একাধিক ফেসবুক পেজ খুলে অপতৎপরতা অব্যাহত রাখে।

পরবর্তীতে “মানিকগঞ্জের আওয়াজ”, “দৈনিক মানিকগঞ্জ নিউজ” এবং সর্বশেষ “Next Time” নামের একটি পেজের মাধ্যমে জেলার নানা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক কুৎসা রটানো হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, কিছু উঠতি বয়সী কিশোর গ্যাং এবং জেলার কয়েকজন কথিত ভূইফোড় সাংবাদিকও এই চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার গুঞ্জন উঠেছে।

ব্ল্যাকমেইল করে অর্থ আদায়ের অভিযোগ :

ভুক্তভোগীদের একাধিক সূত্র জানায়, প্রথমে টার্গেট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে দেয়া হয়। পরে পোস্ট মুছে ফেলা বা অপপ্রচার বন্ধের শর্তে অর্থ দাবি করা হয়।

অনেকেই সামাজিক ও রাজনৈতিক সম্মানের ভয়ে প্রকাশ্যে মুখ না খুললেও, নীরবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। জেলার রাজনৈতিক অঙ্গন, সাংবাদিক সমাজ এবং প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে এ নিয়ে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে।

দৈনিক ‘আমার নিউজ’ অফিসে হামলার অভিযোগ

সম্প্রতি জেলার বহুল প্রচারিত স্থানীয় দৈনিক আমার নিউজ অফিসে সংঘবদ্ধ হামলার ঘটনাও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, একদল ব্যক্তি অফিসে ঢুকে পত্রিকাটির সম্পাদক সাংবাদিক আকরাম হোসেনের স্ত্রী অ্যাডভোকেট ফরিদা ইয়াসমিনকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে।

চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে পরবর্তীতে “Next Time” পেজে তাদের বিরুদ্ধে নানা ধরনের কুৎসা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।

একাধিক মামলার তথ্য

এদিকে অপপ্রচার ও মানহানির অভিযোগে সংশ্লিষ্ট পেজ ও এর পরিচালনাকারীদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে অর্ধশতাধিক মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগীরা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টি তদন্ত করছে বলে জানা গেছে।

সচেতন মহলের উদ্বেগ:

সচেতন নাগরিকরা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে ব্যবহার করে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যমূলক অপপ্রচার এখন বড় সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। এতে যেমন ব্যক্তির সম্মানহানি হচ্ছে, তেমনি জেলায় অস্থিরতা ও বিভ্রান্তিও বাড়ছে। তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো তথ্য বিশ্বাস করে কমেন্টস বা শেয়ার না করার আহ্বান জানিয়েছেন। একইসঙ্গে অপপ্রচার ও সাইবার ব্ল্যাকমেইলের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি বলেন, অপরাধ করলে তা প্রচলিত আইনে বিচারের ব্যবস্থা রয়েছে। ব্যক্তি স্বার্থ রক্ষার জন্য পূর্ব পরিকল্পনার মাধ্যমে মব সৃষ্টি করে অন্যায় কাজ করা কোন সুস্থ ব্যক্তির পক্ষে সম্ভব নয়। অচিরেই এদেরকে সনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা উচিত বলে জানান।

এ বিভাগের আরও সংবাদ

spot_img

সর্বশেষ