শনিবার

২৫শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১০ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মানিকনগর–সিরাজপুর সড়ক যেন মরণফাঁদ: দ্রুত সংস্কারের দাবিতে এলাকাবাসী

মোঃ সাইফুল ইসলাম : মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার মানিকনগর থেকে সিরাজপুর বাজার পর্যন্ত প্রায় ১১ কিলোমিটার সড়ক বর্তমানে চরম বেহাল অবস্থায় রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি এখন স্থানীয়দের কাছে যেন এক মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।

অধিকাংশ স্থানে পিচ, ইট, বালু ও সুরকি উঠে গিয়ে বড় বড় খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হাজারো মানুষ ও বিভিন্ন ধরনের যানবাহন এই সড়ক দিয়ে চলাচল করছে। ফলে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে এবং জনদুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, কয়েক বছর আগে উপজেলা এলজিইডির তৎকালীন উপ-সহকারী প্রকৌশলী মাহাবুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে সড়কের বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত অংশে নিম্নমানের রাবিশ দিয়ে সংস্কার কাজ করা হয়েছিল। কিন্তু নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের কারণে সেই সংস্কার দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। অল্প কয়েক বছরের মধ্যেই সড়কটি আবারও ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

উপজেলা এলজিইডি অফিস সূত্রে জানা যায়, সিংগাইর–মানিকনগর–সিরাজপুর হাট পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে ২০২২–২০২৩ অর্থবছরে মানিকনগর পর্যন্ত প্রায় ৯ কিলোমিটার সড়ক পাকাকরণের কাজ সম্পন্ন হয়। তবে মানিকনগর থেকে সিরাজপুর বাজার পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশের উন্নয়নকাজ এখনও অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে। ফলে দক্ষিণাঞ্চলের বিশাল জনগোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের অধিকাংশ স্থানে কার্পেটিং উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই এসব গর্তে হাঁটুসমান পানি জমে যায়। এতে সড়কটি কাদা ও পানিতে একাকার হয়ে পড়ে। এই দুর্ভোগের মধ্য দিয়েই প্রতিদিন স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষকে চলাচল করতে হচ্ছে। বিশেষ করে গর্ভবতী নারী, অসুস্থ রোগী ও বয়স্কদের জন্য এই সড়ক হয়ে উঠেছে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

শান্তিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রাইসা বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার অবস্থা খুবই খারাপ। বড় বড় গর্তের কারণে সময়মতো স্কুলে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে। দ্রুত সড়কটি সংস্কার করা প্রয়োজন।”

অটোরিকশাচালক আমিনুর, বিপ্লব ও আমান আলী বলেন, “ভাঙাচোরা রাস্তায় গাড়ি চালাতে গিয়ে প্রতিনিয়ত গাড়ি নষ্ট হচ্ছে। যা আয় করি, তার বড় অংশই মেরামতে ব্যয় হয়ে যায়।”

স্থানীয় বাসিন্দা দুলাল মৃধা বলেন, “সড়কটির অবস্থা এতটাই ভয়াবহ যে এটি এখন রাস্তার চেয়ে খালের মতো মনে হয়। বৃষ্টির মধ্যে ভিজে কষ্ট করে চলাচল করতে হয়েছে। দ্রুত সড়কটি সংস্কারের জন্য মানিকগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মঈনুল ইসলাম খান শান্ত মহোদয়ের আন্তরিক হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ গোলাম সামদানী বলেন, “আমি নতুন যোগদান করেছি। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখছি। দ্রুত সময়ের মধ্যে সড়কটি সংস্কারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করা হবে।”

দীর্ঘদিনের এই ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেতে এলাকাবাসী দ্রুত সড়কটির পূর্ণাঙ্গ সংস্কার ও টেকসই উন্নয়নকাজ বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ বিভাগের আরও সংবাদ

spot_img

সর্বশেষ