ওয়াসিম হোসেন
ঢাকা ধামরাইয়ে একটি দেড় ভরি রুপার চেইনের জন্য ৭ বছরের শিশু জিসানকে হত্যা করেন আল আমিন (২২) নামে এক যুবক। এ ঘটনায় মূলহোতা আল আমিন (২২) কে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৪।
সোমবার (১০ জন) এই ঘটনা ঘটে উপজেলার সূতিপাড়া ইউনিয়নের কালামপুর বাজার সংলগ্ন কবরস্থানের পাশে। পুলিশ জিসানের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।
জানা যায়, র্যাব-৪ এর একটি আভিযানিক দল ১০ জুন ২০২৪ ইং রাতে অভিযান চালিয়ে নিখোঁজের একদিন পর ৭ বছরের শিশু জিসানের লাশ উদ্ধার ও হত্যাকান্ডের মূলহোতা আল আমিন (২২) কে মানিকগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
প্রেস ব্রিফিং এ র্যাব-৪ জানায়, ৯ জুন বিকেলে নিহ জিসানের পিতা জুয়েল মিয়া তার ৭ বছরের শিশু নিখোঁজের বিষয়ে র্যাব-৪, সাভার ক্যাম্পে একটি নিখোঁজ অভিযোগ দাখিল করেন। পরে ১০ জুন ধামরাইয়ের কালামপুর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন কবরস্থানের পাশে জঙ্গলের ভিতরে একটি শিশুর মৃতদেহ পাওয়া যায়। ধামরাই থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।
র্যাব-৪ এর জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় , আসামী আল আমিন পেশায় একজন চোর। চুরির পাশাপাশি সে ছিনতাই ও ডাকাতির সাথেও জড়িত। আসামী নিয়মিত মাদক সেবনেও জড়িত। মাদকের টাকা জোগাড় করার জন্য সে ধামরাইসহ আশেপাশের বিভিন্ন এলাকায় চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাই করে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় আসামী গত ০৯ জুন ২০২৪ তারিখ রবিবার বিকেলে কালামপুর এলাকায় গেলে সেখানে সে ভিকটিম শিশুটির গলায় রুপার চেইন পরিহিত অবস্থায় দেখতে পায়।
এ সময় আসামী কৌশলে ভিকটিম শিশুটিকে চকলেট খাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে পাশে জঙ্গলে নিয়ে যায়। গ্রেফতারকৃত আসামী ভিকটিম শিশুটিকে জঙ্গলে নিয়ে বলাৎকার করে তার গলায় থাকা রুপার চেইনটি খুলে নেয় এবং শিশুটির পরিহিত প্যান্টের রশি দিয়ে গলায় পেঁচিয়ে এবং শিশুটি মাথার অংশ কাদা যুক্ত মাটির নিচে চেপে ধরে হত্যা করে রুপার চেইনটি নিয়ে আসামী আল আমিন পালিয়ে যায়।
সিপিসি-২,র্যাব-৪ এর কোম্পানি কমান্ডার রাকিব মাহমুদ খান বলেন, গ্রেফতারকৃত আসামী আল আমিন চুরি, ডাকাতি ও মাদকের সাথে জড়িত। সে মাদকের টাকার জন্য জিসানকে হত্যা করে এবং বলাৎকারের কথা আসামী আল আমিন স্বীকার করে।
জিসানের লাশ দেখে কেউ যেন চিনতে না পারে এজন্য তার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাত করে এবং তার গলায় থাকা রুপার চেইন নিয়ে পালিয়ে যায়। সে সব সময় নেশায় আসক্ত থাকে। এছাড়া একই এলাকায় গত ০৫/০৬ মাস পূর্বে গ্রেফতারকৃত আসামী চুরির ঘটনায় ধরা পড়ে। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

