নিজস্ব প্রতিবেদক
মাদক বিক্রিতে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে মানিকগঞ্জের ঘিওরে মাসুম নামে এক যুবককে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে বড়টিয়া ইউনিয়ন (নিষিদ্ধ) ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রনি আহম্মেদ ও তাঁর দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার বড়টিয়া ইউনিয়নের শ্রীবাড়ি মধ্যপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় মাসুমকে মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, রনি আহম্মেদ ও তাঁর দুই ভাই দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রভাব খাটিয়ে মাদক বিক্রি করে আসছেন। মাদক বিক্রিতে মাসুমসহ কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা বাধা দেওয়ায় তাঁদের সঙ্গে রনি ও তাঁর ভাইদের বিরোধ তৈরি হয়। এর জের ধরে শুক্রবার সকালে রনির বাড়ির সামনে মাসুমের ওপর হামলা করা হয় বলে অভিযোগ।
আহত মাসুমের স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, হামলাকারীরা তাঁকে হাতুড়ি দিয়ে পেটান। এতে তাঁর মাথা ও কোমরে গুরুতর আঘাত লাগে। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ লোকজন রনি আহম্মেদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ঘিওর থানা পুলিশ জানায়, মারধরের ঘটনায় তিনজনকে আটক করা হয়েছে। তাঁরা হলেন রনির বাবা আবুল হোসেন (৫০), মা পারুল বেগম (৪২) এবং রনির স্ত্রী ফাতেমা বেগম (১৯)। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মাসুমকে মারধরের ঘটনায় রনি আহম্মেদ (২৫) ও তাঁর ভাই সোহেল রানা (২৭)-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। তাঁদের বাবা আবুল হোসেন। এ ছাড়া ১৩ বছর বয়সী আরেক কিশোরের নামও ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হিসেবে পুলিশের নথিতে রয়েছে। অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তার পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
ঘিওর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান বলেন, “ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। মারধরের ঘটনায় তিনজনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।”
ওসি আরো জানান, মাসুমকে মারধরের অভিযোগের পাশাপাশি এলাকায় মাদক বিক্রির অভিযোগ এবং পরে রনির বাড়িতে ভাঙচুরের ঘটনাটিও তদন্ত করা হচ্ছে।

