সোমবার

৩১শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৬ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাটুরিয়ায় পরকীয়া প্রেমিকের হাতে খুন হয় ৫৮ বছর বয়সী ফাতেমা

আরিফুর রহমান

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় চাঞ্চল্যকর অজ্ঞাত নারী হত্যাকান্ডের ঘটনায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মূল ঘাতক গ্রেফতার ও হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।

এ ঘটনায় জড়িত ঘাতক মোঃ আফছার (৫৫) প্রেম-ঘটিত ঘটনার জের ধরে পরকীয়া প্রেমিকা লাইলী বেগম ওরফে ফাতেমাকে (৫৮) শ্বাসরোধ করে ও চাকু দিয়ে কুপিয়ে নৃশংসভাবে খুন করে কৃষি জমিতে মরদেহ রেখে পালিয়ে যায়।

আসামির জবানবন্দি অনুযায়ী প্রেস রিলিজের মাধ্যমে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ জানান, ভিকটিম লাইলী বেগম ওরফে ফাতেমা (৫৮) এর সাথে আসামি মোঃ আফছার (৫৫)-এর দীর্ঘ ১৮-১৯ বছরের পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। সম্পর্কের নানা টানাপোড়েনের জের ধরে আসামি আফছার ভিকটিমকে হত্যার পরিকল্পনা করে।

সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী ২৮ আগষ্ট শুক্রবার জুম্মার নামাজের পরে ভিকটিমকে মানিকগঞ্জ জেলা সাটুরিয়ায় এনে হত্যার পরিকল্পনা করে আসামী। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ২৯ আগষ্ট দুপুরে আসামি ভিকটিমের ঢাকা সেনপাড়া পর্বতা বাসা থেকে একটি ধারালো ফল কাটার চাকু সঙ্গে নেয় এবং ওই দিনই দুপুরে রওয়ানা করে বিকেলে ভিকটিমকে নিয়ে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া এলাকার নয়াডিঙ্গি বাসস্ট্যান্ডে এসে পৌঁছায়।

সেখানে এবং তার আশে-পাশে সন্ধ্যা পর্যন্ত অপেক্ষা করে। পরবর্তীতে রাত অনুমান সাড়ে ৭ টার সময় চারদিক অন্ধকার নেমে আসলে আসামি ভিকটিমকে নিয়ে নাহার গার্ডেনের অদুরে নির্জন স্থানে (ঘটনাস্থলে)যায়। সেখানে ভিকটিম ও আসামি শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হয়। অতঃপর মেলামেশা শেষে তাদের মধ্যে বিবাহ সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বাগবিতণ্ডা শুরু হলে রাত অনুমান পৌণে ৮ ঘটিকার সময় ঘাতক আফছার ভিকটিমের পরিহিত কাপড়ের আঁচল দিয়ে পিছন দিক থেকে সজোরে প্যাঁচ দিয়ে গলায় শ্বাসরোধ করে।

ভিকটিম মাটিতে লুটিয়ে পড়লে ঘাতক ভিকটিমের গলার ওপর পা- দিয়ে চেপে ধরে এবং সাথে আনা চাকু ভিকটিমের পেটের মধ্যে ঢুকিয়ে দিয়ে স্ব-জোরে টান দেয়। এভাবে নৃশংসভাবে তার মৃত্যু নিশ্চিত করে স্থান ত্যাগ করে আসামী। গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয় প্রেস-রিলিজে।

এ বিভাগের আরও সংবাদ

spot_img

সর্বশেষ