মোঃ সাইফুল ইসলাম
সাভারের ছায়াবিথি এলাকার একটি তিনতলা ভবনের দ্বিতীয় তলার তালাবদ্ধ ফ্ল্যাট থেকে রিয়া মনি (১৯) নামে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
সোমবার (৮ জুন) বিকালে সাভার মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করেছে।
নিহতের পরিবারের দাবি, রিয়া মনির স্বামী সদ্য ঘোষিত সাভার পৌর ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক রনি ইসলাম স্ত্রীকে হত্যা করে ঘরে তালা লাগিয়ে পালিয়ে গেছেন।
নিহত রিয়া মনি (১৯) নোয়াখালী জেলার মাইজদী থানা এলাকার আব্দুর রবের মেয়ে। স্বামীর সঙ্গে তিনি সাভার পৌর এলাকার ছায়াবিথি মহল্লায় তৌহিদুর রহমানের বাসায় থাকতেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাভারের ছায়াবিথি এলাকার ওই ভবনের দ্বিতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে রনি ও রিয়া দম্পতি ভাড়া থাকতেন। গত কিছু দিন ধরে তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল বলে জানা গেছে।
হত্যার ঘটনায় রিয়া মনির মামা সাদ্দাম হোসেন বাদী হয়ে রাতে সাভার মডেল থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় তিনি রনি ইসলামের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ করেছেন।
নিহতের মামা সাদ্দাম হোসেন বলেন, রনি ইসলাম সম্প্রতি পৌর ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক পদ পাওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন বিষয়ে রিয়ার ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন। তাদের দাবি, পারিবারিক বিরোধের জেরে রনিই রিয়াকে শ্বাসরোধ বা অন্য কোনো উপায়ে হত্যা করে বাইরে থেকে তালা মেরে পালিয়ে যায়।
পরে রিয়াকে হত্যার বিষয়টি মুঠোফোনে রনি তার মাকে জানালে হত্যার কথা প্রকাশ পায়। পরে বিকালে পুলিশ তালা ভেঙ্গে লাশটি উদ্ধার করে। ঘটনার পর থেকেই রনি ইসলামের মুঠোফোন বন্ধ রয়েছে এবং তিনি আত্মগোপনে আছেন।
সাভার মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রমজান আলী বলেন, খবর পেয়ে বিকেলে ওই ফ্লাটের তালা ভেঙে রিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
সাভার মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) নূর মোহাম্মদ বলেন, রনি ইসলাম তার স্ত্রী আত্মহত্যা করেছেন বলে তার মাকে ফোনে জানিয়েছেন। কিন্তু আত্মহত্যার কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ঘরের তালা ভেঙে বিছানার উপর থেকে রিয়া মনির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়না তদন্তের জন্য মরদেহ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

