নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকার ধামরাইয়ে ১৪ বছরের এক কিশোরীকে ঘুমের ওষুধ খাওয়ে ধর্ষণের অভিযোগে সৎ বাবা আজহারুল ইসলাম কাওসারকে গ্রেফতার করেছে ধামরাই থানা পুলিশ। এঘটনায় ভুক্তভোগী কিশোরীর মা বাদী হয়ে ধামরাই থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেছেন।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে গ্রেফতারকৃত সৎ বাবাকে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ। এর আগে বুধবার দিবাগত রাতে ধর্ষণের বিষয়টি জানাজানি হলে অভিযুক্ত আজহারুল ইসলাম কাওসারকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে স্থানীয়রা।
এর আগে, গত মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে ধামরাইয়ের কেলিয়া দক্ষিণপাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
গ্রেপ্তারকৃত আজহারুল ইসলাম কাওসার সিলেট জেলার দক্ষিণ সুরমা থানার সমাসপুর সূতি গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা। কর্মসূত্রে ধামরাইয়ে একটি বাসা ভাড়া নিয়ে পরিবারসহ থাকতেন। তিনি পেশায় রং মিস্ত্রি বলে জানা গেছে।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে আটটার দিকে আজাহারুল কৌশলে তাঁর দুই সৎ মেয়েকে ঘুমের ওষুধ খাওয়ান। ওষুধ খাওয়ার পর বড় মেয়ে ও ছোট মেয়ে আলাদা দুটি কক্ষে ঘুমিয়ে পড়ে। রাত চারটার দিকে আজাহারুল তাঁর স্ত্রীর হাত-পা রশি দিয়ে খাটের সঙ্গে বেঁধে ফেলেন এবং মুখে কসটেপ পেঁচিয়ে দেন।
পরে তিনি বড় মেয়ের কক্ষে ঢুকে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাকে ধর্ষণ করেন। একপর্যায়ে ছোট মেয়ে মায়ের হাতের বাঁধন খুলে দিলে তিনি বড় মেয়েকে উদ্ধার করেন। পরে কিশোরীটি জানায়, এর আগেও একাধিকবার ভয়ভীতি দেখিয়ে তাকে ধর্ষণ করেছেন তার সৎ বাবা।
ধামরাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ নাজমুল হুদা খান জানান, ভুক্তভোগী কিশোরীর মায়ের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা রুজু ও আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ভুক্তভোগী কিশোরীর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

