নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকার ধামরাইয়ে পৌরশহরের বড়চন্দ্রাইল এলাকায় ঘর ভাঙার প্রতিবাদ করায় কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা, বসতবাড়ী ভাঙচুরের ঘটনায় দ্রুত বিচার আইনে ধামরাই থানায় একটি মামলা হয়েছে। সেই মামলায় রোববার (১২এপ্রিল) দিনগত রাতে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
এর আগে শনিবার (১১এপ্রিল) দিনগত রাত ৮টার দিকে ধামরাই পৌরশহরের বড়চন্দ্রাইল এলাকায় এমন ঘটনাটি ঘটে।এঘটনায় ভুক্তভোগী শিপন বাদী হয়ে ১১জনের নাম উল্লেখ্য করে এবং ১০জনকে অজ্ঞাত করে ধামরাই থানায় একটি মামলা দায়ে করেন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, বড়চন্দ্রাইল এলাকার মৃত জলিল খানের ছেলে মোঃ শহিদুল খান সাঈদ, তারই ভাই মোঃ হাসমত আলী খান, মোঃ হাসমত আলী খানের ছেলে মোঃ পারভেজ। তাদেরকে আজ সকালে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ নাজমুল হুদা খান।
ভুক্তভোগী ও মামলা সুত্রে জানা যায়, মোঃ শরিফউদ্দিনের ঘরের পূর্ব পাশে মোঃ শহিদুল খান সাঈদ ৫তলা ফাউন্ডেশন দিয়ে বাড়ী করতে গিয়ে সেখানে ভেকু লাগিয়ে মাটি উত্তলন করেন। ফলে পশ্চিম পাশে থাকা শরিফউদ্দিনের ঘরের ওয়াল ও মেজে ফেটে হেলে যায়। পরে শরিফউদ্দিন ও তার পরিবার সমাজের মাতাব্বরদের কাছে বিচার চাই। মাতাব্বররা সেই বিচারে মোঃ শহিদুল খান সাঈদকে ঘর মেরামত করার জন্য দুই ট্রাক ইট জরিমানা করেন। সেই দুই ট্রাক ইট জরিমানা দেওয়ার পর থেকে তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। সেই বিরোধকে কেন্দ্র করে শনিবার সন্ধ্যায় শহিদুল খান সাঈদ ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী দিয়ে মোঃ রুবেল, মোঃ হামেদ আলী, মোঃ মোখলেছ আলী, আসাদুল, মোতালেব ও রোকনকে দেশীয় ধারালো অস্ত্র রামদা, দা ও ছেন দিয়ে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করে। আহতদের মধ্যে রোকনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (নিটোর)-এ ভর্তি করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী মোঃ খোকন ও মোতালেব বলেন, একটি নির্মাণাধীন ভবনের মাটি খননকে কেন্দ্র করে পার্শ্ববর্তী বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনায় দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। ওই বিরোধের জেরেই ১২ এপ্রিল সন্ধ্যা ৮টার দিকে বড় চন্দ্রাইল মাদ্রাসা সংলগ্ন সড়কে সাঈদ তার ভাড়া করা সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে অর্তকিত হামলা করে দা, ছেন ও রামদা দিয়ে কুপিয়ে মোঃ রুবেল, মোঃ হামেদ আলী, মোঃ মোখলেছ আলী, আসাদুল, মোতালেব ও রোকনকে কুপিয়ে আহত করে চলে যায়।
এই বিষয়ে ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ নাজমুল হুদা খান বলেন, ধামরাই পৌরশহরের বড় চন্দ্রাইল এলাকায় কুপিয়ে আহত করার ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। সেই মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারের অভিযান চলমান রয়েছে। কেউ সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবেনা।

