নিজস্ব প্রতিবেদক
ভূয়া শিক্ষা সনদ দিয়ে চাকুরী নিয়ে মাদরাসার অর্থ আত্মসাৎ ও দূর্নীতির অভিযোগে মানিকগঞ্জ ইসলামিয়া কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আতিকুর রহমানের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে। মানিকগঞ্জ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত ৪ এ মামলাটি দায়ের করেন একই মাদরাসার সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুল মান্নান।
মামলার বিবরনে বাদী উল্লেখ করেন, ২০১৮ সালের ১৪ই অক্টোবর মানিকগঞ্জ ইসলামিয়া কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ পদে চাকুরীতে আবেদনের সময় অতিরিক্ত যোগ্যতা হিসেবে নিজেকে কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি গবেষক দাবি করেন বিবাদী আতিকুর রহমান। কিন্তু পরবর্তীতে তিনি তার স্বপক্ষে কোন কাগজ-পত্রাদি দেখাতে পারেননি।
এছাড়া পিএইডি করতে গেলে বি,এ (অনার্স), এম,এ ডিগ্রীধারী হইতে হয়। প্রকৃতপক্ষে বিবাদীর বি,এ (অনার্স), এম,এ ডিগ্রীধারীরও কোন সনদ নেই। চাকুরীর সময় এসব মূল সনদ পরবর্তীতে সময়ে দাখিল করিবে বলিয়া চাকুরী নিলেও তিনি পরে আর কোন সনদ দেখাতে বা জমা দিতে পারেননি।
সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রয়োজনীয় কাগজ-পত্রাদি জমা না দিয়া তিনি নিজেকে মুজিবের সৈনিক ও পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ থানা ওলামালীগের সভাপতি হিসেবে নিজেকে অ্যাখ্যা ও লিখিত অঙ্গিকার দেন। সেই অঙ্গিকারনামায় তিনি উল্লেখ করেন বিএনপি’র রাজনীতি তিনি মনেপ্রাণে ঘৃণা করেন এবং জামায়াত ইসলামী কোন রাজনৈতিক দলই নয়। এরপর সে নিজের ইচ্ছেমতো মাদরাসা পরিচালনা করে বিপুল পরিমান অর্থ আত্মসাৎ করেন।
মাদরাসার তিন তলা বিশিষ্ট মার্কেটের দোকান ভাড়ার জামানত বাবদ ৫৫ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা এককালীন গ্রহন করে মাদরাসা তহবিলে জমা না দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এছাড়াও অধ্যক্ষ হিসেবে তিনি নিয়োগ লাভের পর হইতে অধ্য পর্যন্ত ৭৩ মাসে দোকান ভাড়া বাবদ মোট ৮৬ লক্ষ ১৪ হাজার টাকা বিনা ভাউচারে আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এসব অভিযোগ অস্বীকার করে মানিকগঞ্জ ইসলামিয়া কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আতিকুর রহমান বলেন, মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে বাদী মামলা করেছেন। তার বিরুদ্ধে আনিত কোন অভিযোগের সহিত তার সম্পৃক্ততা নেই বলে জানান তিনি।
এদিকে মামলার বাদী একই মাদরাসার সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. আব্দুল মান্নান বলেন, ভূয়া সনদ দিয়ে তৎকালীন মানিকগঞ্জ ৩ আসনের সংসদ সদস্য জাহিদ মালেকের সুপারিশে চাকুরী নেন আতিকুর রহমান। তার বিরুদ্ধে মানিকগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতে একটি চাঁদাবাজির মামলাও চলমান রয়েছে। ভদ্রতার আড়ালে তিনি মূলত একজন অর্থলোভী জালিয়াত। আদালতের মামলার মাধ্যমে বিষয়টি অবশ্যই প্রমানিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে মাদরাসার এক শিক্ষক বলেন, নিয়োগের সময় থেকেই আওয়ামীলীগের প্রভাব খাটিয়ে তার ইচ্ছেমতোভাবে তিনি মাদরাসা পরিচালনা করে আসছেন। তার ব্যক্তিগত মতবাদই তিনি নিয়ম বলে মনে করেন। সরকারী কোন নিয়মনীতির তোয়াক্কা করেন না তিনি। সুষ্ঠ একটি তদন্ত হলে তার বিরুদ্ধে সব অভিযোগই প্রমানিত হয়ে আসবে। যে কারণে মাদরাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে তিনি বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানান।
বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. হুমায়ন কবীর সেন্টু বলেন, মানিকগঞ্জ চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত ৪ এর বিচারক বাদীপক্ষের অভিযোগটি আমলে নিয়ে মামলাটি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেসন (পিবিই) মামলাটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করলে বিষয়টি অবশ্যই প্রাথমিক সত্যতা পাবে এবং বিচারিক আদালতের মাধ্যমে বাদীপক্ষ ন্যায় বিচার পাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

