নিজস্ব প্রতিবেদক
মানিরকগঞ্জ শহরে প্রবেশের অনত্যম গুরুত্বপূর্ণ সড়ক শহীদ রফিক সড়ক। এই সড়কের জজ কোর্টের সামনে থেকে মানিকগঞ্জ মডেল উচ্চ বিদ্যালয় পর্যন্ত আধা কিলোমিটার এবং বাজার ব্রিজ থেকে সদর থানা পর্যন্ত এক কিলোমিটার সড়ক নতুন ড্রেনেজ নির্মাণের পর ইউনি ব্লক দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়। পৌরসভার এই দেড় কিলোমিটার সড়ক এখন মরণ ফাঁদ হিসেবে পরিচিত।
সড়কের নিচে থাকা ড্রেনের আরসিসি ঢাকনা ও ম্যানহোলের কাভার সড়কের তুলনায় উঁচু থাকায় মোটরসাইকেল, রিকশা ও অটোরিকশা চালকদের প্রতিদিনই ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। প্রায়েই ঘটছে ছোট-বড় দুর্টনা। স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজের মান নিয়ন্ত্রণ ও তদারকির ঘাটতির কারণে এমন বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।
মানিকগঞ্জ পৌরসভার তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে সিআরডিপি-২ প্রকল্পের আওতায় শহরের খাল পুনঃখনন, সৌন্দর্যবর্ধন, আরসিসি পাইপ ড্রেনেজ, তিনটি ব্রিজ ও একটি পাবলিক টয়লেটসহ একটি সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেয় পৌর কর্তৃপক্ষ। প্রাথমিকভাবে এই প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছিল ২৫ কোটি ১ লাখ ৫৯ হাজার ৪ টাকা।
কাজটি পায় অ্যাপেক্স এন্টারপ্রাইজ ও মেসার্স কামরুল অ্যান্ড ব্রাদার্স (জেভি)। নির্ধারিত সময় ২০২৪ সালের জুন হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ শেষ করতে পারেনি। পরে কয়েক দফায় মেয়াদ বৃদ্ধি করে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত করা হয়। প্রকল্পের ব্যয় আরও তিন কোটি টাকা বাড়ানো হলেও কাজের মান নিয়ে শেষ পর্যন্ত প্রশ্ন থেকে যায়।
নির্াণের কয়েক মাসের মধ্যেই ওই সড়কের একাধিক জায়গা দেবে যায়। কোথাও কোথাও গর্ত তৈরি হয়। আবার বৃষ্টির সময় পানি জমে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। এ ছাড়া ড্রেন ও ম্যানহোলের ঢাকনা রাস্তার তুলনায় অনেকটা উঁচু হয়ে থাকায় যানবাহন চলাচলে বাড়তি ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। যার কারণে ওই সড়কটি এখন মরণ ফাঁদ হিসেবে বেশ পরিচিত।
মানিকগঞ্জ পৌরসভার বাসিন্দা খোরশদ আলম বলেন, শহরের প্রধান দুটি সড়ক ইউনি ব্লক দিয়ে করা হয়েছে। কাজ এত নিম্নমানের হয়েছে তা সড়ক দেখলেই বোঝা যায়। পৌরসভার প্রকৌশলীরা ঠিকাদারের নিকট থেকে সুবিধা নিয়ে এই কাজে তদারকি না করে ঠিকাদারকে সহায়তা করেছে। কাজের তদারকি করা হলে শহরের প্রাণকেন্দ্রের সড়কের অবস্থা এতো দ্রুত এমন হওয়ার কথা নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ইকবাল হোসেন নামের এক রিকশা চালক বলেন, সড়কের বিভিন্ন জায়গায় দেবে গেছে। বহু জায়গায় উঁচু-নিঁচু। শহরে গাড়ীর পিছে গাড়ী থাকে। যে কারণে খুব সাবধানে গাড়ী চালাইতে হয়। একটু বেখেয়াল হলেই দুর্টনা ঘটে।
আইনজীবী ভবন-২-এর কাছে গর্তে পড়ে পথচারী আহত হওয়ার কথাও জানান একজন ফুল ব্যবসায়ী। তিনি বলেন, ‘প্রথমে শহিদ রফিক সড়কে ইউনি ব্লকের রাস্তা নির্মাণ হয়। এ রাস্তার কাজ এতটাই বাজেভাবে হয় যে আদালত থেকে আসামিদের বহন করা প্রিজন ভ্যানের চাকা দেবে গাড়ি কাত হয়ে যায়। আর আমাদের পট্টিতে এতটাই দেবে গেছে যে স্বাভাবিকভাবে গাড়ি চলতে পারে না। শহরের যানজট হওয়ার এটা মূল কারণ।’
রাস্তার বর্তমান অবস্থার কারণে শহরের বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে এই সমস্যার সমাধানে পৌরসভা বা ঠিকাদারের পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তাদের দাবি, দ্রুত সড়ক সংস্কার এবং ড্রেন ও ম্যানহোলের ঢাকনার উচ্চতা সমন্বয় না করলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
মানিকগঞ্জ পৌরসভার প্রকৌশলী শাহাদাৎ হোসেনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে সাংবাদিক পরিচয় পেয়েই তিনি মুঠোফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। তার অফিসে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। যে কারণে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

