বৃহস্পতিবার

১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ধামরাইয়ে সিজারের কাঁচি দিয়ে ৪জনকে জখম

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকার ধামরাইয়ে আলাদীনস জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা না দিয়ে ৪ জনকে সিজারের কাঁচি দিয়ে জখম করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে ওই হাসপাতালের দ্বায়িত্বরত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে । আহতদের অবস্থা গুরুতর হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের সাভার এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাত প্রায় ১২ টার দিকে উপজেলার কুল্লা ইউনিয়নের ঢাকা আরিচা মহাসড়কের জয়পুরা বাসস্ট্যান্ড এলাকার আলাদীনস জেনারেল হাসপাতালে এই ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন- মো. হাসিব (২০), সুজন আহমেদ (২৮), ইসরাফিল হেসেন (২২) ও মো. ইউসুফ আলী (২১)। তারা সকলেই উপজেলার কেলিয়া গ্রামের বাসিন্দা।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, স্থানীয়রা ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের জয়পুরা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অজ্ঞাত এক রিকশা চালককে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান। পরে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য স্থানীয় আলাদীনস জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু হাসপাতালের ডিউটি ডাক্তার আলামিন ভুক্তভোগীকে চিকিৎসা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। কেন চিকিৎসা দিবে না বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের সাথে ডিউটি ডাক্তারের বাকবিতন্ডা হয়।

এসময় খবর পেয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা সুজনসহ কয়েকজন যুবক ছুটে আসেন হাসপাতালে। সুজন ও তার সাথে থাকা লোকজন ও স্থানীয়দের অকথ্য ভাষায় গালি-গালাজ করে। একপর্যায়ে সুজনের সহায়তায় ডাক্তার আলামিন স্থানীয় ৪ যুবককে ছুরিকাঘাত করে মারাত্মকভাবে জখম করে। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

ভুক্তভোগী সুজন বলেন, এক অটোরিকশা চালককে কে বা কারা অচেতন ওষুধ খাইয়ে অটো ছিনতাই করে নিয়ে যায়। আমরা দেখি অটোরিকশা চালক আলাদীনস হাসপাতালের পশ্চিম পাশে অচেতন হয়ে পড়ে আছে। পরে আমরা তাকে আলাদীনস হাসপাতালে নিয়ে যাই প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য। তখন হাসপাতালের ডিউটি ডাক্তার আলামিন বলে এই লোকের কোন চিকিৎসা এখানে হবে না। এর কোন প্রাথমিক চিকিৎসা নেই। আমাদের রুলসে (নিয়ম) নেই এদের চিকিৎসা করার। মালিকের নির্দেশ আছে, আমরা এর কোন চিকিৎসা করতে পারবো না।

ভুক্তভোগী সুজন আরো বলেন, হাসপাতাল থেকে খালেকের ছেলে আওয়ামী লীগের নেতা সুজনকে ফোন দিয়ে নিয়ে আসে। পরে সুজন কয়েকজন গুন্ডাপান্ডা নিয়ে এসে আমাদের উপর আক্রমনাত্মক কথা বলতে থাকে। একপর্যায়ে সুজন ও স্টাফরা আমাদের পিছমোড়া করে ধরে ফেলে। তখন ডাক্তার আলামিন সিজারের কাঁচি দিয়ে আমাদের আঘাত করে।

পরে স্থানীয়রা আমাদের আহত অবস্থায় ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে থেকে কর্তব্যরত চিকিৎসক আমাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা রেফার্ড করলে আমরা সাভার এনাম মেডিকেলে ভর্তি হই।

ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডঃ মন্জুর আল মুর্শেদ চৌধুরী বলেন, ছুরিকাঘাতে আহত চারজনকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে হাসিব নামে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক থাকায় তাকে ঢাকা রেফার্ড করা হয়।

আহত রোগীকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার নিয়ম নেই এমন মন্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডঃ মন্জুর আল মুর্শেদ চৌধুরী বলেন, হাসপাতাল সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। সব রোগীকে চিকিৎসা দিতে বাধ্য । এমন কর্মকাণ্ডে কেউ যদি লিখিত অভিযোগ দেন তাহলে তদন্ত কমিটি গঠন করে আমরা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিব।

রোগীকে চিকিৎসা না দেওয়া এবং ডাক্তারের ছুরিকাঘাতে ৪ যুবক আহতের বিষয়ে আলাদীনস জেনারেল হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ কোন সাক্ষাৎ দিবেন না বলে জানান। এছাড়া হাসপাতালে গিয়ে ডিউটি ডাক্তার আলামিনকে পাওয়া যায়নি।

তবে অভিযুক্ত ডাক্তার আলামিনের সাথে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী কোন আননোন পয়জনিং (অজ্ঞাত বিষক্রিয়া) সংক্রান্ত রোগীর চিকিৎসা দেওয়া হয় না। তারপরও আমি হাসপাতালের মালিক মেহজাবিন প্রিয়াংকাকে কল করি। রোগী ভর্তি রাখবো কিনা জানতে চাইলে তিনি না করে দেন। তাই আমি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যেতে বলি। কিন্তু তারা আমার কথা না শুনে আমার উপর হামলা করে। রোগীর সাথে থাকা লোকজনকে আঘাতের বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি।

ধামরাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, আলাদীনস জেনারেল হাসপাতালে মারামারির বিষয়টি শুনেছি। তবে এখনও কেউ অভিযোগ করেনি। লিখিত অভিযোগ করলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ বিভাগের আরও সংবাদ

spot_img

সর্বশেষ